ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ এর তথ্য

ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক বদর

0 14

Sponsored

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় বাণী কথার পাঠক বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই  মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। আমিও মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

ইসলামের প্রথম যুদ্ধ হলো বদরের যুদ্ধ।  কুরাইশদের  ইসলামের উপর ষড়যন্ত্রের ফলে ইসলামের সৈনিক রা ষড়যন্ত্রকারীদের উপর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যুদ্ধে ইসলামিক সৈনিক ছিল মাত্র ৩১৩ জন। আর কুরাইশদের সৈনিক ছিল সে তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু তবুও মুসলিমদের জয় হয়েছিল। আজকে আমরা সেই যুদ্ধের কিছু অজানা তথ্য জানবো।

ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টি হয়। যুদ্ধ জয়ের ফলে বিশ্বনেতা হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্তৃত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। ফলে মদিনার নতুন রাষ্ট্রকে অন্য আরব গোত্রগুলি মুসলিমদেরকে নতুন শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করে। বদরের যুদ্ধের পর নতুন রাষ্ট্র মদিনার শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায় তলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

মুসলিম উম্মাহর কাছে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণ অনেক সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।অন্যদিকে এ যুদ্ধে আবু জাহলসহ মক্কার অনেক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ নিহত হন। ফলে আবু সুফিয়ান কুরাইশদের নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। মক্কা বিজয়ের আগে বদর পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে কুরাইশদের নেতৃত্ব দেয় আবু সুফিয়ান।

Sponsored

১০ হিজরিতে মক্কা বিজয়ের সময় আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলিম হওয়ার পর আবু সুফিয়ান মুসলিম সাম্রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খোলাফায়ে রাশেদার ৩০ বছর রাজত্বের পর তার ছেলে আমীর মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন।আধুনিক যুগে বদরের নামে বিভিন্ন দেশের অপারেশনঃ ১৯৭৩ সালে ইজরাইলের বিরুদ্ধে মিসরের আক্রমণের নাম ছিল ‘অপারেশন বদর’।

১৯৮০ এর দশকে ইরাকের বিরুদ্ধে ইরানের অপারেশনের নামও ‘অপারেশন বদর’ রাখা হয়।বদর যুদ্ধ ছিল সত্যের সাথে মিথ্যার শক্তি পরীক্ষার লড়াই। এ যুদ্ধ ছিল হকের সাথেবাতিলের,মুসলমানদের সাথে কাফেরের । ঐতিহাসিকদের মতে, মুসলিমবাহিনী এ যুদ্ধে যদি জয়লাভ না করতে পারতো তাহলে ইসলাম পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যেতো।

এ যুদ্ধ বিজয়ের পর নতুন যুগের সূচনা হয়। মহান আল্লাহর সাহায্যে মুসলিম সৈন্যরা বিজয় লাভ করেন। যুদ্ধে বিজয়ের পর অমুসলিমদের প্রতি মুসলমানদের আচরণ ছিলো আরেক ঐতিহাসিক ঘটনা। পরাজিতদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা হয়। তাদেরকে আরামে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার বিনিময়ে বন্দী মুক্তির ঘোষণা দেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।

বদর যুদ্ধে বন্দীদের মুক্তিেণ আদায়ের শর্তে মুক্তি দেয়া হয়। যে সব বন্দী মুক্তিপণ আদায় করতে সক্ষম ছিলোনা তাদেরকে ১০ জন মুসলিম শিশুকে লেখা পড়া শেখানোর শর্তে মুক্তি দেয়া হয়। এ ঘটনা ছিল যুদ্ধ ও শিক্ষার ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ) এভাবে লেখা পড়া শিখেছিলেন। বদর যুদ্ধের বিজয়ের পথ ধরেই পরবর্তীতে মুসলিম জাতি অপ্রতিরোধ্য গতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।

যত বড় অপশক্তিই হোক না কেন মুসলমানদের কাছে সেই অপশক্তি কিছুই না। আমরা বদরের যুদ্ধ থেকেই প্রমাণ পেয়ে থাকি। মুসলমানদের মুসলমানদের হারাতে পারবে না।

Sponsored

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More