মসজিদ নির্মাণের সময় যে ভুলগুলো করলে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হয়-

মসজিদ নির্মাণের সময় যে ভুলগুলো করলে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হয়

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। সুপ্রিয় বাণী কথার পাঠক বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই  মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালো আছেন। আমিও মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

সুপ্রিয় আলোর পথের পাঠকবৃন্দ আপনারা সবাই জানেন যে মসজিদ নির্মাণ অনেক ভালো একটি কাজ। অনেক সওয়াব এর একটি কাজ। যে মসজিদে সবাই আল্লাতালার ইবাদত করবে, আল্লাহ তায়ালাকে সিজদা করবে, নামাজ কায়েম করবে, নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে মানুষ কুরআন শিক্ষা পাবে।

ইসলাম সম্পর্কে মানুষ জেনে, মানুষ তার জীবন ইসলামের আলোকে গঠন করবে। সেই মসজিদ নির্মাণ যে কতটা ছোয়াবের আপনারা সবাই জানেন। সেটাকে ভালো কাজের চাবিকাঠি বলা যেতে পারে। সেটা তো বলাই বাহুল্য। ইসলাম অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে যে রকম দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তেমনি মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ও কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইসলামের যে সমস্ত দিক নির্দেশনার কথা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই সব যদি অনুসরণ না করে আমরা মসজিদ নির্মাণ না করি। তাহলে মসজিদ নির্মাণ করলে আমাদের সওয়াবের থেকে বড় গুনাহ হবে। যেমন আপনি যদি কারো জমি দখল করেন। বা সরকারি জমি জোর করে দখল করে অনুমতি না নিয়ে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন।

আর যদি এতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে অবশ্যই আপনি সওয়াব এর পরিবর্তে গুনার ভাগিদার হয়ে গেলেন। এজন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ নির্মাণের জন্য যেসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সব বিষয়ে দিকনির্দেশনা মেনে আমাদের মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ;যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে। ওই ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে মসজিদের অনুরূপ একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে দেবেন।

এক্ষেত্রে তো মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। কিন্তু মসজিদের এমন একটি কাজ যাতে প্রদর্শন প্রিয়তা চলে আসতে পারে। লৌকিকতা চলে আসতে পারে। মানুষের কাছ থেকে বাহাবা নেওয়ার বিষয়টি চলে আসতে পারে। সে জন্যই মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু নির্দেশনা মানতে হবে। মসজিদ নির্মাণ টি যেন অবশ্যই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হয়।

যেন কোনভাবেই লোক দেখানো বা নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন বা সমাজে নিজের একটা অবস্থান জানানোর জন্য মসজিদ তৈরি করা না হয়। অনেকে অনেক সুন্দর একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। যাতে মানুষ দেখে দেখে বলে যে কে তৈরি করে দিয়েছে। এতে মানুষ তার নাম বলে এবং তিনি অনেক পরিচিতি পান। কিন্তু তেমন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে মসজিদ তৈরি করা যাবে না।

এমন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে মসজিদ তৈরি করলে। এতে মহান আল্লাহতালা সওয়াব দান করার থেকে আপনাকে গুনার ভাগিদার করবে। মসজিদ নির্মাণ যেন কখনো লোকদেখানো না হয়। মসজিদ নির্মাণ করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। এবং যাতে আশেপাশের সবাই এখানে এসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারি। মহান আল্লাহতালার কাছে সেজদা করতে পারি।

কোরআন-হাদিসের শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কুরআনের আলোকে নতুন জীবন গঠন করতে পারে। এই রকম নিয়ত করেই মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। আর তা না হলে আমরা যদি নিজেকে আশপাশের লোকদের কাছে গর্বের বস্তু হিসেবে। প্রশংসার বস্তু হিসেবে দেখানোর জন্য মসজিদ নির্মাণ করে থাকে তাহলে সেটি হবে না। বরং গুনার কাজ হয়ে যাবে।

অতএব আমরা যদি কেউ মসজিদ নির্মাণের কথাটা চিন্তা করে রাখি। তাহলে যেন এসব দিক নির্দেশনা ও মাথার মধ্যে রাখি। কারণ মসজিদ নির্মাণ হলো এমন একটি ইবাদত যাতে আপনি অনেক অনেক সওয়াবের অধিকারী হবেন। কিন্তু যদি আপনার নেক নিয়ত না থাকে।। তাহলে বরংচ আপনি গুনার ভাগিদারী হবেন।

আপনি এসব নির্দেশনা মেনে মসজিদ নির্মাণ করবেন। কারণ হল মসজিদ  মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। যেখানে আমরা মহান আল্লাহকে সেজদা করি। মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদতরত অবস্থায় থাকি।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More